ফ্রান্স, স্পেন ও আলবেনিয়ার পর পর্তুগাল ও ইতালিতেও বিক্ষোভের ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছে। ২০২৪ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে ১.২ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ রাস্তায় নামেন, তাদের মধ্যে অধিকাংশই আবাসন সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। পর্তুগালের লিসবনে ২৫,০০০ জন, ইতালির রোমে ১৮,০০০ জনেরও বেশি অংশগ্রহণ করে, যা শহরগুলোর জনসাধারণের স্থানে বিশাল ভিড় তৈরি করে। প্রতিবাদকারীরা স্লোগান তুলেন ‘আমাদের দম বন্ধ হয়ে আসছে’ এবং ‘বাড়ি ছাড়া কেউ নেই’। এই বিক্ষোভগুলো ইউরোপের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক চাপের প্রতিফলন, যা অনেক দেশের নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনে গভীর প্রভাব ফেলছে।
এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি আবাসন সংকট, যা ২০১০ সাল থেকে ক্রমাগত বাড়ছে। উচ্চ রিয়েল এস্টেট মূল্য, সীমিত আবাসন সরবরাহ ও নগরায়নের দ্রুত গতি এই সংকটকে আরও তীব্র করেছে। একই সাথে, ২০২৩–২৪ সালে মুদ্রাস্ফীতি ৬.৫% এ পৌঁছেছে, যা খাদ্য, জ্বালানি ও স্বাস্থ্যসেবার মূল্যে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটিয়েছে। শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির হার এই মুদ্রাস্ফীতির তুলনায় কম, ফলে বাস্তব আয়ের হ্রাস ঘটছে। এই অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নাগরিকদের মধ্যে অসন্তোষ ও হতাশা সৃষ্টি করেছে, যা সাম্প্রতিক বিক্ষোভের মূল কারণ।
প্রতিবাদকারীদের মধ্যে ছাত্র, কর্মজীবী ও প্রবীণরা অন্তর্ভুক্ত। লিসবনের একটি প্রতিবাদে ২০ বছর বয়সী সারা, যিনি একটি ছোট অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া ১,২০০ ইউরো থেকে ১,৮০০ ইউরোতে বাড়তে দেখেছেন, বলেন, ‘আমরা এখনো বাড়ি কিনতে পারি না, আর ভাড়া বাড়ছে।’ ইতালির রোমে, একটি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি, লুকা, সরকারকে ‘আবাসন নীতি ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে তৎপরতা’ দাবি করেন। সরকারী কর্মকর্তারা বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে আবাসন ভর্তুকি ও কর রেহাইয়ের পদক্ষেপ নিয়েছি, তবে তা পর্যাপ্ত নয়।’ জনসাধারণের মধ্যে এই বক্তব্যের প্রতি মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়; কেউ সমর্থন করেন, কেউ সমালোচনা করেন।
কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া হিসেবে, পর্তুগাল ও ইতালির পুলিশ বিভাগ বিক্ষোভের সময় শৃঙ্খলা রক্ষা করতে ১,০০০ জনেরও বেশি কর্মী মোতায়েন করেছে। উভয় দেশে বিক্ষোভের সময় সীমিত এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ করা হয়েছে, এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রতিবাদকারীদের সাময়িকভাবে আটক করা হয়েছে। সরকারী নীতি হিসেবে, পর্তুগাল ‘সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্প’ চালু করেছে, যা ২০২৫ সালের মধ্যে ৫,০০০ নতুন আবাসন ইউনিট নির্মাণের লক্ষ্য রাখে। ইতালি ‘মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও ভাড়া স্থিতিশীলতা’ পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে, যা ২০২৪ সালের মধ্যে ভাড়া বৃদ্ধির হার ২% এর নিচে রাখার প্রতিশ্রুতি দেয়। ভবিষ্যতে, উভয় সরকারই অর্থনৈতিক নীতি ও সামাজিক নিরাপত্তা জালকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করছে, যাতে নাগরিকদের জীবনের মান উন্নত হয়।