পূজার ছুটির প্রথম দিনেই চট্টগ্রাম বিভাগের খাগড়াছড়ি জেলায় অবস্থিত জনপ্রিয় পর্যটন পার্কে বিশাল ভিড় জমে। স্থানীয় ও দূরদূরান্তের পর্যটকরা পাহাড়ের শীর্ষে ছড়িয়ে থাকা সবুজ গাছপালা, সজীব নদীর ধারা এবং ঝর্ণার স্ফটিক স্বচ্ছ জলের দৃশ্য উপভোগের জন্য একত্রিত হয়েছেন। পার্কের প্রবেশদ্বার থেকে শুরু করে প্রধান পর্যবেক্ষণ পয়েন্ট পর্যন্ত মানুষজনের স্রোত অব্যাহত, কেউ ক্যামেরা হাতে ছবি তোলায় মগ্ন, কেউ বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে হালকা আলাপের মধুর মুহূর্তে মেতে উঠেছেন। এই ভিড়ের মাত্রা পূর্বের ছুটির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, যা খাগড়াছড়ির পর্যটন আকর্ষণকে দেশের বিভিন্ন কোণ থেকে আগত ভ্রমণকারীদের জন্য এক নতুন গন্তব্যে রূপান্তরিত করেছে।
খাগড়াছড়ি জেলায় পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন মিলিতভাবে পার্কের অবকাঠামো উন্নত করতে নানা প্রকল্প চালু করেছে; নতুন রোড, পর্যাপ্ত পার্কিং স্থান, শৌচালয় এবং খাবার স্টল স্থাপন করা হয়েছে। পূর্বে এই অঞ্চলে পর্যটনের প্রবাহ তুলনামূলকভাবে কম ছিল, তবে সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম ও ঢাকা থেকে পর্যটকদের আগমন বৃদ্ধি পেয়ে পার্কের জনপ্রিয়তা শীর্ষে পৌঁছেছে। বিশেষ করে পূজা, ঈদ এবং শীতকালীন ছুটির সময়ে প্রকৃতির স্নিগ্ধতা ও শীতল বাতাসের আকর্ষণ মানুষকে এই অঞ্চলে আকৃষ্ট করে।
পর্যটন পার্কের পরিচালনা কমিটি প্রধানের মতে, এই ছুটিতে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি পর্যটক উপস্থিত হওয়ায় নিরাপত্তা ও পরিষেবার মান বজায় রাখতে অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ভিড়ের ফলে বিক্রয় বৃদ্ধি পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন, তবে কিছু অংশে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে পার্কের পরিষ্কার‑পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। পর্যটকদের মধ্যে একদল বলছেন, “প্রাকৃতিক দৃশ্যের সঙ্গে সঙ্গে এখানে গাইডেড ট্যুরের ব্যবস্থা থাকলে অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ হতো।” অন্যদিকে, পরিবেশ সংরক্ষণ সংস্থার প্রতিনিধিরা অতিরিক্ত ভিড়ের ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর চাপ বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে সতর্কতা প্রকাশ করেছেন।
অধিকাংশ পর্যটক নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারার জন্য স্থানীয় প্রশাসন জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পার্কের প্রবেশদ্বারে নিরাপত্তা গার্ডের সংখ্যা বৃদ্ধি, জরুরি চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে পার্কের সক্ষমতা বৃদ্ধি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পর্যটক‑সেবা উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা তৈরি করা হবে; এতে নতুন পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, ইকো‑ট্যুরিজম রুট এবং ডিজিটাল তথ্য কেন্দ্র অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই উদ্যোগগুলো পর্যটকদের সন্তুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি খাগড়াছড়ি জেলায় টেকসই পর্যটন মডেল গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।