কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) উন্নয়নের গতি কমানো উচিত কি না, এ নিয়ে প্রযুক্তিবিশ্বে তীব্র বিতর্কের মাঝেই অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআই দুজনেই নতুন ফ্ল্যাগশিপ মডেল উন্মোচন করেছে। উভয় প্রতিষ্ঠানই একসাথে প্রকাশিত মডেলগুলোকে ‘সাবলীলতা ও নিরাপত্তা’কে অগ্রাধিকার দিয়ে তৈরি বলে দাবি করেছে এবং একই সঙ্গে এআই গবেষণার ত্বরান্বিত গতি নিয়ন্ত্রণের আহ্বানও জানিয়েছে। এই দ্বৈত অবস্থান দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় ব্যাপক দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, কারণ এটি প্রযুক্তি অগ্রগতি ও নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে সূক্ষ্ম সমতা বজায় রাখার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত পাঁচ বছরে এআই প্রযুক্তি বিশাল অগ্রগতি অর্জন করেছে; ভাষা মডেল, চিত্র সৃষ্টিকর্তা, স্বয়ংক্রিয় কোড লেখক ইত্যাদি ক্ষেত্রের সাফল্যগুলোকে শিল্প, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ নানা খাতে রূপান্তরমূলক প্রভাব ফেলেছে। তবে একই সঙ্গে অপ্রত্যাশিত ঝুঁকি, যেমন তথ্যের বিকৃতি, গোপনীয়তা লঙ্ঘন এবং স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের সম্ভাবনা, নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও কিছু দেশ ইতিমধ্যে এআই উন্নয়নের গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য নীতি প্রস্তাবনা তৈরি করেছে; ইউরোপীয় ইউনিয়নের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আইন, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নির্দেশিকা ইত্যাদি উদাহরণস্বরূপ উল্লেখযোগ্য। এই প্রেক্ষাপটে অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআই নতুন মডেল প্রকাশের মাধ্যমে নিরাপদ এআই বিকাশের মানদণ্ড স্থাপন করার লক্ষ্য ঘোষণা করেছে।
অ্যানথ্রপিকের প্রধান বিজ্ঞানী ড. রাহুল চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের নতুন মডেলটি ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা ও নৈতিকতা নিশ্চিত করার জন্য কঠোর ফিল্টার এবং স্বচ্ছতা প্রোটোকল অন্তর্ভুক্ত করেছে; তবু গবেষণা গতি ধীর করা হলে উদ্ভাবনের সম্ভাবনা ক্ষুণ্ণ হবে।’ ওপেনএআইয়ের মুখপাত্র শ্রীমতি সুমিতা দাশও একই রকম দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে, ‘এআইকে দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করা সম্ভব, তবে তা জন্য প্রযুক্তিগত অগ্রগতি থামানো নয়, বরং নিয়ন্ত্রিত ও পর্যবেক্ষিত পদ্ধতি গ্রহণ করা দরকার।’ অন্যদিকে, ডেটা গোপনীয়তা সংস্থার প্রধান শ্রী অমর দত্ত উল্লেখ করেন, ‘নতুন মডেল উন্মোচন করা ভাল, তবে তা যেন জনসাধারণের তথ্যের সুরক্ষা ক্ষুণ্ণ না করে, তা নিশ্চিত করা জরুরি।’ সাধারণ জনগণের মধ্যে এই মডেলগুলোর প্রতি মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়; কিছু ব্যবহারকারী উন্নত সেবা প্রত্যাশা করেন, আবার অন্যরা প্রযুক্তির অতিরিক্ত নির্ভরতার প্রতি সতর্কতা প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ সরকার এআই ক্ষেত্রের নীতি প্রণয়নে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ এআই নীতি টাস্কফোর্স ইতিমধ্যে অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআইয়ের মডেল বিশ্লেষণ করে নিরাপত্তা মানদণ্ড প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি, জাতীয় ডিজিটাল নিরাপত্তা নীতি প্রণয়ন কমিটি নতুন মডেলগুলোর ব্যবহারিক প্রয়োগের জন্য অনুমোদন প্রক্রিয়া ও তদারকি ব্যবস্থার খসড়া তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে সরকার এআই গবেষণার ত্বরান্বিত গতি ও নৈতিক দায়িত্বের মধ্যে সমন্বয় রক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নিয়মাবলী প্রণয়ন করবে এবং শিল্পখাতে উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করার জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তা প্রদান করবে।