বিশ্ববাজারে স্মার্টফোন সরবরাহে বিশাল ধস দেখা দিয়েছে, যা গত ত্রৈমাসিকে ১২ শতাংশের বেশি হ্রাস ঘটিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষক সংস্থা গ্লোবাল টেক ইনসাইটসের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হ্রাসের প্রধান কারণ হল কাঁচামাল মূল্যের বৃদ্ধি, উৎপাদন শৃঙ্খলে ব্যাঘাত এবং ভোক্তা চাহিদার পরিবর্তন। একই সময়ে, একটি দক্ষিণ কোরিয়ান বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ সংখ্যক স্মার্টফোন উৎপাদন করে বিশ্ববাজারে শীর্ষে রয়েছে। এই ঘটনা দেশের অর্থনৈতিক নীতি, বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং প্রযুক্তি শিল্পের ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
স্মার্টফোন উৎপাদনের গ্লোবাল প্রবণতা গত পাঁচ বছরে ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে ২০২১ সালের শেষ থেকে চিপ ঘাটতি এবং লজিস্টিক্স ব্যয়বৃদ্ধি উৎপাদন ক্ষমতাকে সীমাবদ্ধ করেছে। কোভিড‑১৯ মহামারীর সময়ে গৃহস্থালির চাহিদা বৃদ্ধি পেয়ে অস্থায়ীভাবে সরবরাহ শৃঙ্খল শক্তিশালী হয়েছিল, তবে মহামারীর পরবর্তী পর্যায়ে ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস এবং উচ্চ মূল্যের পণ্য থেকে সরে যাওয়া দেখা গেছে। তদুপরি, কাঁচামাল সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর উপাদানের রপ্তানি সীমাবদ্ধতা, উৎপাদন পরিকল্পনাকে অনিশ্চিত করেছে। এই সব কারণ একত্রে বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোনের মোট সরবরাহে উল্লেখযোগ্য হ্রাসের দিকে ধাবিত করেছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, সরবরাহের হ্রাস দেশের বাণিজ্য ভারসাম্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং তাৎক্ষণিক নীতি সমন্বয়ের প্রয়োজন। বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক্স শিল্প সমিতি (বিএইএসএ) প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেছেন, স্থানীয় উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রপ্তানি বাজারের বৈচিত্র্যকরণই দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার সমাধান হবে। ভোক্তা অধিকার সংস্থা 'গ্রাহক সুরক্ষা ফেডারেশন' উদ্বেগ প্রকাশ করে, উচ্চ মূল্যের স্মার্টফোনের প্রবেশে নিম্ন আয়ের গোষ্ঠীর ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি বিপন্ন হতে পারে। আর্থিক বিশ্লেষক রাহুল চৌধুরী উল্লেখ করেন, এই ধস স্বল্পমেয়াদে শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে, তবে উৎপাদন পুনরুদ্ধার হলে পুনরায় বৃদ্ধি পেতে পারে।
সরকার ইতিমধ্যে স্মার্টফোন শিল্পকে সমর্থন করার জন্য একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রথমত, কাঁচামাল আমদানি শুল্কে অস্থায়ী হ্রাস এবং উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে কর রেহাই প্রদান করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, স্থানীয় গবেষণা ও উন্নয়ন কেন্দ্রের জন্য তহবিল বৃদ্ধি করে নতুন চিপ ডিজাইন ও উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে সরবরাহ শৃঙ্খল স্থিতিশীল করার জন্য দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ত্বরান্বিত করা হবে। এসব নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশীয় স্মার্টফোন উৎপাদন বাড়িয়ে রপ্তানি বৃদ্ধি এবং ভোক্তাদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যের পণ্য নিশ্চিত করা লক্ষ্য রাখা হয়েছে।