স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আজ জাতীয় পর্যায়ে এক জরুরি নির্দেশ জারি করেছে; ৬ মাস থেকে ৯ বছরের সকল শিশুকে হ্যাম (Haemophilus influenzae type b) টিকা দুই সপ্তাহের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রদান করতে হবে। এই নির্দেশনা টিকাদানের দেরি ও সংক্রমণজনিত রোগের ঝুঁকি হ্রাসের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে এবং তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়ন করা আবশ্যক বলে ঘোষিত হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের প্রকাশ্য নোটে উল্লেখ করা হয়েছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে শৈশবকালীন শ্বাসযন্ত্রের গুরুতর সংক্রমণ রোধে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা যাবে।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে যৌথ স্বাধীন মূল্যায়ন দলের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ, যা টিকাদান, নজরদারি ও রোগী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অবিলম্বে পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। পূর্বে হ্যাম টিকাদানের কভারেজ মাত্র ৪৫ % ছিল, বিশেষ করে গ্রামীণ ও দূরবর্তী অঞ্চলে তা কম। অতীতে হ্যাম সংক্রমণের ফলে শ্বাসযন্ত্রের রোগে রোগীর মৃত্যুহার বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্বাস্থ্য পরিসংখ্যানের মধ্যে উদ্বেগের বিষয় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। মূল্যায়ন দল উল্লেখ করেছে, টিকাদানের সময়সূচি সঠিকভাবে অনুসরণ না করলে রোগের বিস্তার ও স্বাস্থ্য ব্যয় বৃদ্ধি পাবে।
নির্দেশনা প্রকাশের পর স্বাস্থ্য মন্ত্রী ডা. মোহাম্মদ আলী হোসেন টিকাদানের জরুরি বাস্তবায়নকে “জাতীয় স্বাস্থ্যের সুরক্ষার অগ্রগণ্য দায়িত্ব” বলে উল্লেখ করে, সংশ্লিষ্ট সকল স্বাস্থ্যকর্মীকে ত্বরিত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। পেডিয়াট্রিক বিশেষজ্ঞ ডা. রুবি হক বলেন, দুই সপ্তাহের সময়সীমা শিশুর রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলার জন্য যথাযথ, তবে তা বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত শীতল শৃঙ্খল ও টিকাদান কেন্দ্রের প্রস্তুতি নিশ্চিত করা দরকার। কিছু অভিভাবক টিকাদানের দ্রুততা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তবে অধিকাংশই সরকারী উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে, শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য এটি প্রয়োজনীয় বলে মত পোষণ করেছেন।
কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে টিকাদান ক্যাম্পের সংখ্যা বৃদ্ধি, মোবাইল স্বাস্থ্য ইউনিটের মাধ্যমে দূরবর্তী এলাকায় টিকাদান, এবং শীতল শৃঙ্খল ব্যবস্থার তদারকি শক্তিশালী করার পরিকল্পনা করেছে। তদুপরি, টিকাদান রেকর্ডের ডিজিটালাইজেশন ও রিয়েল‑টাইম নজরদারি ব্যবস্থা চালু করে টিকাদানের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। ভবিষ্যতে টিকাদান কভারেজ ৯৫ % পর্যন্ত বাড়াতে অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ ও জনসচেতনতা কর্মসূচি চালু করা হবে, যাতে হ্যাম সংক্রমণ সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।