এক মাসেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও ছাত্রদলের শীর্ষ দুই নেতা বিদায়ের বার্তা জানানো সত্ত্বেও নতুন কমিটির ঘোষণা এখনও প্রকাশিত হয়নি। এই অপ্রত্যাশিত বিলম্ব ছাত্রসংগঠনের অভ্যন্তরীণ কাঠামো ও নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর দৃষ্টিতে তা গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নতুন কমিটির গঠন না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান কার্যক্রমে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, ফলে ছাত্রদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নীতি নির্ধারণে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠা থেকে এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি কমিটি গঠিত হয়েছে, যেখানে অভিজ্ঞতা ও নবীনতার সমন্বয়কে মূল মানদণ্ড হিসেবে ধরা হয়। পূর্ববর্তী কমিটিগুলোতে প্রায়শই অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ ও বাহ্যিক চাপের ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই পরিবর্তন ঘটেছে। বিদায়ের ঘোষণার পর নতুন কমিটি গঠনের জন্য প্রস্তাবিত মানদণ্ডে তরুণ ও অভিজ্ঞদের সমন্বয়, বিভিন্ন শাখা ও বিভাগের প্রতিনিধিত্ব, এবং ন্যায্য নির্বাচন প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে এই মানদণ্ডের বাস্তবায়ন ও প্রয়োগে প্রয়োজনীয় সমন্বয় কাজটি এখনও সম্পন্ন হয়নি, যা বিলম্বের প্রধান কারণ হিসেবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
বিদায়ের সময় দুই শীর্ষ নেতা প্রকাশ্যে বলেছেন, নতুন নেতৃত্বের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় রাখতে হবে, যাতে সংগঠনের মূল লক্ষ্য—শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা ও সামাজিক পরিবর্তন—সফলভাবে চালিয়ে নেওয়া যায়। দলের জ্যেষ্ঠ সদস্যদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তরুণ সদস্যদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে একটি সমন্বিত কমিটি গঠন করা জরুরি। ছাত্রসংগঠনের সাধারণ সদস্যরা সামাজিক মিডিয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে, তারা দ্রুত সিদ্ধান্তের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন যে অস্থিরতা শিক্ষার পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে।
দলীয় গঠন পরিষদ এখন পর্যন্ত একটি অভ্যন্তরীণ সময়সূচি প্রণয়ন করেছে, যেখানে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রাথমিক প্রস্তাবনা জমা এবং ত্রৈমাসিক সভায় চূড়ান্ত ভোটের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনও এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পর্যবেক্ষক দল গঠন করেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা প্রদান করবে। ভবিষ্যতে যদি সময়মতো নতুন কমিটি গঠন না হয়, তবে শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষার জন্য বাহ্যিক সংস্থার হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা বাড়তে পারে, যা সংগঠনের স্বায়ত্তশাসন ও কার্যকারিতার ওপর প্রভাব ফেলবে।