জি২০ সম্মেলনের প্রস্তুতি চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পুতিনকে সরাসরি আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ট্রাম্পের আমন্ত্রণে পুতিনকে জি২০ শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে, যেখানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা নীতি নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হবে। এই আমন্ত্রণের তাৎক্ষণিক গুরুত্ব আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের পুনরায় গঠন এবং দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর সম্ভাবনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষত, রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও প্রতিযোগিতার পরিপ্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপকে শান্তি ও সহযোগিতার সংকেত হিসেবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে।
পুতিনের সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্র সফর ২০২৫ সালের আগস্টে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যেখানে তিনি আলাস্কা রাজ্যের লালগালিচা সংবর্ধনা দিয়ে ট্রাম্পের স্বাগত পেয়েছিলেন। সেই সফরে দু'দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক চুক্তি, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছিল, তবে মানবাধিকার ও সাইবার আক্রমণ সংক্রান্ত মতবিরোধ অব্যাহত ছিল। জি২০ সম্মেলনের পূর্বে এই ঐতিহাসিক সফরটি দুই দেশের কূটনৈতিক মঞ্চে নতুন দৃষ্টিকোণ উন্মোচন করে, যা বর্তমান আমন্ত্রণের পটভূমি গঠন করেছে।
এই আমন্ত্রণের পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উভয়ই ইতিবাচক মন্তব্য প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেছেন, পুতিনের অংশগ্রহণ জি২০ আলোচনাকে বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার দিকে আরও সমন্বিত করবে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রীও উল্লেখ করেছেন, এই আমন্ত্রণ রাশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তবে দেশীয় বিশ্লেষক ও নাগরিক সমাজের কিছু গোষ্ঠী এই পদক্ষেপকে কূটনৈতিক স্বার্থের চেয়ে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে সমালোচনা করেছে। সামাজিক মাধ্যমে পুতিনের আমন্ত্রণ নিয়ে তীব্র বিতর্ক দেখা গিয়েছে, যেখানে সমর্থকরা শান্তি ও সংলাপের পক্ষে এবং বিরোধীরা মানবাধিকার লঙ্ঘনের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে এবং সম্মেলনের কার্যসূচি নির্ধারণে ত্বরান্বিত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের গৃহ নিরাপত্তা সংস্থা এবং রাশিয়ার গোপন সেবা সম্মেলনের সময় উচ্চস্তরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বয় করেছে। পাশাপাশি, জি২০ শীর্ষ সম্মেলনের এজেন্ডায় জলবায়ু পরিবর্তন, বৈশ্বিক মুদ্রা নীতি এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পুনর্গঠনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ভবিষ্যৎ দৃষ্টিতে, পুতিনের অংশগ্রহণের মাধ্যমে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের পুনরায় গঠন এবং জি২০ কাঠামোর মধ্যে সমন্বিত নীতি গঠনের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।