ব্রিকস দেশগুলোর সমন্বয়ে গৃহীত যৌথ ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক লেনদেন মার্কিন ডলারের বদলে নিজস্ব মুদ্রায় পরিচালনা করা হবে। এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার বৈচিত্র্য আনা, মুদ্রা ঝুঁকি হ্রাস করা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শাসনে সমতা প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। ঘোষণাপত্রের তাৎক্ষণিক গুরুত্ব স্পষ্ট; এটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারে নতুন গতিবিধি সৃষ্টির সম্ভাবনা উন্মোচন করে এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের কাঠামোতে পরিবর্তনের সূচনা করে।
ব্রিকস গোষ্ঠী, যা ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা নিয়ে গঠিত, পূর্বে বহুবার মুদ্রা পরিবর্তনের আলোচনা চালিয়ে এসেছে। ২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো মুদ্রা বিনিময় ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, ডলারের আধিপত্য ভাঙতে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়নি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা নীতি ও সুদের হার বৃদ্ধি, পাশাপাশি জিও-অর্থনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে ডলারের ওপর নির্ভরতা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ব্রিকস দেশগুলো স্বতন্ত্র মুদ্রা ব্যবহারের মাধ্যমে বাণিজ্যিক স্বায়ত্তশাসন অর্জনের জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরকারী নেতারা জোর দিয়ে বলেছেন যে, নিজস্ব মুদ্রায় লেনদেনের মাধ্যমে রপ্তানি-আমদানি খরচ কমবে এবং বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের চাপ হ্রাস পাবে। চীনের অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন, "আমাদের মুদ্রা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নতুন ভিত্তি হবে"। একই সঙ্গে, ভারতীয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র উল্লেখ করেছেন যে, এই পদক্ষেপটি দেশের রপ্তানি প্রতিযোগিতা বাড়াবে। বাজার বিশ্লেষকরা সতর্কতা প্রকাশ করে বলেছেন, মুদ্রা রূপান্তর প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে হবে এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য যথাযথ নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। সাধারণ জনগণের মধ্যেও এই ঘোষণাপত্রকে স্বাগত জানানো হয়েছে; বিশেষ করে রপ্তানি-নির্ভর ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের মালিকরা মুদ্রা পরিবর্তনের ফলে লাভের সম্ভাবনা দেখছেন।
কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ব্রিকস দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে মুদ্রা বিনিময় প্ল্যাটফর্ম স্থাপন করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এছাড়া, বাণিজ্যিক সংস্থাগুলোকে নতুন মুদ্রা ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে, এই মুদ্রা ব্যবস্থার সফলতা নির্ভর করবে সদস্য দেশগুলোর সমন্বিত নীতি, আর্থিক অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক বাজারের গ্রহণযোগ্যতার উপর। দীর্ঘমেয়াদে ডলারের আধিপত্য কমিয়ে বৈশ্বিক আর্থিক শাসনে সমতা স্থাপনের লক্ষ্য অর্জিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।