শরীয়তপুর জেলার কীর্তিনাশা নদীর ওপর অবস্থিত দুটি পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর পাশে নতুন করে নির্মিত হওয়া দুটি সেতুর কাজ পাঁচ বছর পরেও সম্পন্ন হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে এই অবকাঠামোগত অবহেলায় নিত্যদিনের যাতায়াতে অসহনীয় ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। নদীর দুই পাড়ে অবস্থিত জনপদগুলোকে সংযুক্ত করার এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে অর্ধসম্পন্ন অবস্থায় পড়ে থাকায় এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক চলাচলে গভীর প্রভাব পড়েছে। স্থানীয় মানুষেরা জানান, নতুন সেতুর নির্মাণকাজের অগ্রগতি অত্যন্ত ধীরগতির হওয়ায় তারা প্রতিদিন বিকল্প পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন, যা সময় ও অর্থের বিশাল অপচয় ঘটছে।
এই প্রকল্পের নেপথ্যে রয়েছে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের চাপ ও দাবি। কীর্তিনাশা নদীর ওপর পুরোনো সেতু দুটির অবস্থা এতটাই নাজুক হয়ে পড়েছিল যে, ভারী যানবাহন চলাচলের জন্য সেগুলো সম্পূর্ণ অযোগ্য হয়ে পড়েছিল। নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার লক্ষ্যে সরকারি পর্যায়ে নতুন সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াটি শুরু থেকেই বিভিন্ন বাধার মুখে পড়ে। প্রকল্পের অনুমোদন, ভূমি অধিগ্রহণ এবং নির্মাণকাজের বিভিন্ন ধাপে দীর্ঘ সময় লেগে যাওয়ায় পাঁচ বছর পার হলেও কাজটি শেষ হয়নি। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, প্রকল্পের বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত মনিটরিং ও তদারকি না করা হওয়ায় কাজের গতিপথ ধীর হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই অবস্থার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা দাবি করেছেন, দ্রুত কাজ শেষ করে সেতুগুলো যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হোক। স্থানীয় একজন ব্যবসায়ী জানান, নদীর ওপারে পণ্য পরিবহনের জন্য তারা প্রতিদিন বাড়তি খরচ বহন করতে হচ্ছে, যা তাদের ব্যবসায়িক লাভে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অন্যদিকে, এলাকার শিক্ষার্থীরাও বৃষ্টি ঋতুতে পানি জমে যাওয়া বিকল্প পথে চলাচলে বিশেষ কষ্ট পান। স্থানীয় জনগণের মতে, এই অবকাঠামোগত দুর্বলতা এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করছে এবং মানুষের নিত্যদিনের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলছে। তারা কর্তৃপক্ষের দিকে তাকিয়ে আছেন, যাতে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে, প্রকল্পটি সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং শীঘ্রই কাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়রা এই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন নিয়ে সkeptical অবস্থানে আছেন। তারা দাবি করেছেন, নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করে কাজটি সম্পন্ন করতে হবে এবং দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতে এমন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও দ্রুততা নিশ্চিত করার জন্য কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় নেতারা। শরীয়তপুরের এই সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এলাকার মানুষের ভোগান্তি কমবে না বলে মনে করা হচ্ছে, যা স্থানীয় উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে আরও বিঘ্নিত করবে।